মোঃ মহিউদ্দীন আহমদ রিমেল | জয়েন্ট কনভেনর | বাংলাদেশ পর্যটন ও হোটেল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন
পর্যটন উন্নয়নের কারণ গুলি কি কি?
পর্যটন শিল্পকে প্রভাবিত করার কারণগুলির মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতি, শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নত অবকাঠামো, ভিসা সুবিধা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যায়ন, মানুষের মনোভাব, পর্যটক সংখ্যা, কোয়ারেন্টাইন, বিশ্ব জনসংখ্যা, শিক্ষা, আয়ের স্তর, পণ্যের মূল্য স্তর, বিভিন্ন ভাষা এবং হোটেল ভাড়া।
পর্যটন উন্নয়নের তিনটি দিক কি কি?
টেকসই নীতিগুলি পর্যটন বিকাশের পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক দিকগুলিকে নির্দেশ করে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য এই তিনটি মাত্রার মধ্যে একটি উপযুক্ত ভারসাম্য স্থাপন করা আবশ্যক।
দেশীয় পর্যটন বৃদ্ধির উপায়:-
দেশীয় পর্যায়ে পর্যটন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুটি জিনিসকে বিবেচনায় অবশ্যই রাখতে হবে-
০১. উচ্চমান সম্পন্ন পর্যটন
০২. বাজেট বান্ধব পর্যটন
০১. উচ্চমান সম্পন্ন পর্যটন
উন্নয়নের ক্ষেত্রে-
– দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা
– পর্যটকের সার্বিক নিরাপত্তার বিধান করা
– সময় ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, এয়ারপোর্টে ই-চেকইন, অনলাইন চেকইন, অনলাইনে বোর্ডিং পাস কালেকশন
– পর্যটকদের জন্য পর্যটক তথ্য কেন্দ্র নির্মাণ ( যেখানে সকল প্রকার পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা উল্লেখ করা থাকবে এবং সেটা ডিজিটালাইজড হতে হবে, যেখান থেকে চাইলে পর্যটক ওয়েবসাইটের লিঙ্কে ঢুকে পর্যটকদের সুযোগ সুবিধার সমস্ত তথ্য বিস্তারিত জানতে পারে এবং সেখান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং দিতে পারে, এমনকি পরিবহন সুবিধাও সেখানে উল্লেখিত থাকে), প্রয়োজনে অনলাইন ভিত্তিক ওয়েবসাইট অথবা বাংলাদেশ পর্যটন সেবা নামে অ্যাপস করে দিতে হবে।
এমনকি একজন পর্যটক চাইলে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল এড্রেস এবং পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে নিজের একটি পর্যটক আইডি বা অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফেলতে পারে যেখান থেকে সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম সিজনাল অফার উপভোগ করতে পারে এবং ডিসকাউন্ট পেতে পারে। এছাড়া পর্যটনের নতুন নতুন সংযোজনগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।
০২. বাজেট বান্ধব পর্যটন
– পর্যটকদের ব্যক্তিজীবনে প্রয়োজনীয় আয় নিশ্চিত করতে হবে
– পর্যটকদের ছুটির ব্যবস্থা থাকতে হবে
– পরিবহণের উন্নয়ন (যেন পর্যটন উপভোগের হয় এবং ভোগান্তি না হতে পারে)
– বাজেট হোটেল
– বাজেট এয়ারলাইন্স কিংবা সস্তা ফ্লাইট
– ভোগান্তিহীন, সুষ্ঠু ও যানজট মুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা
– স্বাস্থ্যসম্মত খাবার
– মূল্যের বিপরীতে পণ্য ও সেবার মান নিশ্চিত করণ
– নিরাপত্তার বিধান করা
– প্রতিষ্ঠানের ধরন, তারকা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ
এছাড়া,
– সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ
– আঞ্চলিকতার পাশাপাশি পর্যটকদের চাহিদার দিকে নজর রাখা
– পর্যটক ও পর্যটনকর্মী উভয়কেই সমাজ ও সংস্কৃতি সচেতন করে গড়ে তোলা
– নিয়ম, আইন কিংবা উপসংস্কৃতির নামে পর্যটকদের উপর কোন কিছু চাপিয়ে না দেয়া আবার উদার পর্যটনের নামে আইন-শৃঙ্খলা, নিয়ম নীতি ও সংস্কৃতির প্রতি সংঘাত মূলক কোনো কিছুকে প্রশ্রয় না দেয়া
– দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের উত্তর উত্তর উন্নতি ঘটানো
– পর্যটক স্পট গুলো ভিক্ষাবৃত্তি, চাঁদাবাজি, তর্কাতর্কি, ঝগড়াঝাটি কিংবা মারামারি মুক্ত করতে হবে
– পর্যটন স্পটগুলো থেকে লোক ঠকানো, ধাপ্পাবাজ, ঠকবাজ, দালালশ্রেণী, সাহায্যআবেদনকারী সমূলে নির্মূল করা
– ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা এবং কোন ধর্মকেই যেন তুচ্ছ কিংবা হেনস্থা না হতে হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা, সকল ধর্মকেই একটি পারস্পরিক সহাবস্থানে রাখা
– বিভিন্ন সংস্কৃতিক লোকজনের প্রতি সম্মান রাখা ও পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রাখা
– নিজস্ব সংস্কৃতির ভালো দিকগুলো সুন্দরভাবে অনুশীলন করা কারণ এ থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নাম প্রস্ফুটিত হয় অন্যদিকে বিভিন্ন কুসংস্কার, কুপ্রথা ও কট্টরপন্থী মনোভাব প্রকাশ না করা এতে করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ মান ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়
– পর্যটনকে স্কুল-কলেজ ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পাঠদান করানো
– পর্যটন কেন্দ্র, এয়ারপোর্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি এলাকাতে নির্দিষ্ট ম্যানার বজায় রাখা (যা আন্তর্জাতিক ভাবে গৃহীত, যেমন উচ্চস্বরে কথা না বলা, কাউকে উচ্চ স্বরে না ডাকা, হইচই না করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ভদ্রতা বজায় রাখা, টয়লেট বা শৌচাগার ব্যবহারের পর তা পরিষ্কার রাখা (ঠিক পুর্বে যেমনটি ছিল), অন্যান্য লোকজন বিরক্ত হয় এমন কোন কাজ থেকে বিরক্ত থাকা, কোন পরিষেবায় সমস্যা হলে কিংবা সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান যদি সমস্যা করে সেক্ষেত্রে সরাসরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনে টুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নেয়া)-এবং এই সকল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান করা
– বাংলাদেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র, বিনোদন কেন্দ্র, ঐতিহাসিক স্থান, জাদুঘর, ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, জাতিগত বৈশিষ্ট্য, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে-বিভাগীয় পর্যায়ে-জেলা পর্যায়ে-থানা পর্যায়ে-ইউনিয়ন পর্যায়ে-এমনকি পাড়া বা এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন পর্যটন স্থান কিংবা আকর্ষণ সম্পর্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের অন্তর্ভুক্ত করা। এবং উক্ত কেন্দ্র বা স্থানগুলো একটি ওয়েবসাইট ও অ্যাপস ভিত্তিক তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা রাখা
একটি দেশের ক্রান্তিলগ্নে, পর্যটনকে কোনমতে বাঁচিয়ে রাখতে পারে দেশীয় পর্যটন। সুতরাং, বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের পাশাপাশি, দেশের বা আঞ্চলিক সংকটময় মুহূর্তে পর্যটনকে টিকিয়ে রাখতে দেশীয় পর্যটকগণ দেশপ্রেমিকের ন্যায় বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে।
তাই, দেশীয় পর্যটন একটি দেশের পর্যটনের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।
